ব্লকচেইন হতে পারে দেশের আইটি রপ্তানির অন্যতম খাত

২৬ মে, ২০২১ ১৩:০৯  
সঙ্গত কারণেই কেন্দ্রীয় ব্যাংক রক্ষণশীল হলেও আর্থিক খাতে ব্লকচেইন প্রযুক্তির মতো ফ্রন্টিয়ার প্রযুক্তি ব্যবহারের সুযোগ করে দিতে স্ট্যাডি করছে বাংলাদেশ ব্যাংকের দুই শতাধিক কর্মকর্তা। ডিজিটাল ফ্রন্টির ইনস্টিটিউট থেকে তিন বছরের প্রশিক্ষণ নেয়া বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি ডিরেক্টর এএসকে মুকিতুল ইসলাম জানিয়েছেন, ব্লকচেইন চালু করার সুযোগ দেয়া হলেও দেশে এক্ষেত্রে সহসাই বিটকয়েনের মতো সরাসরি ক্রিপ্টোকারেন্সি ব্যবহার অনুমতির সুযোগ দেবে না। বাংলাদেশ ইকোনোমি ব্লকচেইন সম্মেলনের প্রথম দিনের তৃতীয় অধিবেশনে ‘দি ফিউচার অব রেমিটেন্স’ শীর্ষক প্যানেল আলোচনায় অংশ নিয়ে এ তথ্য জানান বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি ডিরেক্টর। এক্ষেত্রে এমএফএস প্রতিষ্ঠানগুলোকে ডিএফএস করার আহ্বান জানান তিনি। এর পরামর্শে ট্রাস্ট আজিয়াটা ডিজিটাল লিমিটেড সিইও দেওয়ান নাজমুল হাসান বাংলাদেশেই বিদেশী এজেন্টের মাধ্যমে আসা প্রবাসী আয় যেন এমএফএসগুলোর মধ্যে মানি স্প্লিট করে দিতে পারে এমন একটি হাব গড়ে তুলতে হবে। এক্ষত্রে নিয়ন্ত্রণ সুবিধার স্বার্থে ব্যাংককে সাথে রাখতে হবে। একভাবে ব্লকচেইনকে সুযোগ হিসেবে দেখতে নিয়ন্ত্রকদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে সাইবার ক্রাইম অ্যাওয়ারনেস ফাউন্ডেশন উপদেষ্টা ও ট্রান্সফোটেক সিইও শেখ গালিব রহমান। তিনি বলেন, যারা আগে যুাক্তরাষ্ট্রে ফ্রিল্যান্সিং করতো তাদের অনেকেই এখন ব্লকচেইনে ঢুকছে। ফলে ব্লকচেইন ভিত্তিক ডেভেলপার রিসোর্সপুলকে উন্নয়ন করা দরাকার। স্মার্ট কন্ট্রাক্ট বা সলিডিটি প্রোগ্রামিং এর মতো রিসোর্সপুল যদি আমরা ডেভেলপ করতে পারি তাহলে আইটি কনসাল্টিংয়ের মাধ্যমে আইটি এক্সপোর্ট থেকে একটি বড় অংশ দখল করে নিতে পারি। হাইটেক পার্ক কৃর্তপক্ষের পরিচালক এ এনএম শফিকুল ইসলামের সভাপতিত্বে আলোচনায় আরো অংশ নেন নগদ এর চিফ পাবলিক অ্যাফেয়ার্স অফিসার সোলাইমান সুখন এবং আর্নস্ট অ্যান্ড ইয়ং বাংলাদেশ এর অ্যাসোসিয়েট ভাইস প্রেসিডেন্ট মুইজ তাসনিম তক্বি। প্যানেল আলোচনার শুরুতেই গালিব রহমান বলেন, খুব শিগগিরি অর্থ আদান-প্রদানের পুরো পদ্ধতিতে রেঁনেসার জন্ম দেবে ব্লকচেইন। প্রবাসীদের পাঠানো রেমিটেন্স প্রবাহকে আরো গতিময় ও সুরক্ষিত করবে। ব্লকচেইনের পক্ষে নিজের জোরোলা অবস্থান তুলে ধরে তিনি বলেন, আমরা চাই ব্লকচেইনের মাধ্যমে মধ্যসত্বভোগীদের হটিয়ে দিয়ে বর্তমান যে ক্রসবার্ডার মানি ট্রান্সফারিং সিস্টেম আছে, টেকনিক্যালি বললে এটা সুইফট ফ্রেমওয়ার্কে যে মিডলম্যান রয়েছে, এটাকে এলিমিনেট করে কীভাবে একটা ক্লিকে সরসরি অর্থ পাঠিয়ে দেয়া যায়। এটাই আমাদের আলটিমেট গোল। সেক্ষেত্রে আমরা বাংলাদেশ কিন্তু এগিয়ে। আমাদের উদ্ভাবিত মোবাইল ব্যাংকিং অনেকটা এগিয়ে। ইতোমধ্যেই আমরা ব্লকচেইন ভিত্তিক না হলেও আমরা প্রবাসীরা মোবাইল অ্যাপের মাধ্যমে টাকা পাঠাই। সেখান থেকে সরাসরি বিকাশ ও নগদে চলে যাচ্ছে। তবে এজন্য প্রবাসীদের টাকা পাঠানোর ব্যবস্থাকে আরো ডিজিটাল করার আহ্বান জানান তিনি। ডিস্ট্রিবিউটেড লেজার পদ্ধতিতে ব্লকচেইনের‘হ্যাস-জোড়’অর্থ আদান প্রদানের অন্যতম অনুষজ্ঞ‘বিশ্বাস’ও ‘সুরক্ষা’ নিশ্চিত করে বলে মন্তব্য করেন সোলাইমান সুখন ফলে প্রবাসী আয় দেশে আনার পথকে আরো সহজ করতে নগদ ‘ক্রসবর্ডার’ নীতির ওপর ভিত্তি করে আমরাও এই প্রযুক্তি ব্যবহারের জন্য মুখিয়ে আছি। কিন্তু এ জন্য আইন ও নীতি নির্ধারকদের প্রতি নগদ তাকিয়ে আছে বলে জানান তিনি। সুখন বলেন, এখনো দেশের মধ্যেই ‘ক্রসবর্ডার’লেনদেন চলে। আর এই সেবা চালুর ক্ষেত্রে এর মধ্যে যেন খরচ না বাড়ে সে বিষয়টিও গুরুত্ব দিতে হবে। প্রযুক্তি ও নতুন উদ্ভাবনে আমরা অগ্রজ হিসেবে থাকতে চাই। প্রবাসী আয় দেশে আনার ক্ষেত্রে বিশ্বাস, নিরাপত্তার পাশাপাশি খরচটাও একটি বড় ইস্যু উল্লেখ করে দেওয়ান নাজমুল হাসান বলেন, সবকিছু মিলিয়ে এক্ষেত্রে ব্লকচেইন বিদ্যমান প্রযুক্তির মধ্যে উত্তম। এজন্য আমরা প্রস্তুতি নিচ্ছি। এখন তাকিয়ে আছি বাংলাদেশ ব্যাংকের দিকে। এএসকে মুকিতুল ইসলাম বলেন, প্রাবাসী আয়ে আগামীতে ব্লু-কলার থেকে হোয়াট কলারে রূপান্তরিত করতে পারলে স্বাভাবিকভাবেই দেশে প্রবাসী আয় বাড়বে। দোকানির পক্ষ থেকে এক টাকার বদলে চকলেট ধরিয়ে দেয়ার ট্রেন্ড উল্লেখ করে দেশের মানুষ এখনো সরাসরি না হলেও পরোক্ষভাবে ব্লকচেইন বা বিটকয়েনের মতো লেনদেনে জড়িয়ে পড়েছেন বলে অভিমত ব্যক্ত করেন মুইজ তাসনিম। তাই সম্পদের মূল্যায়ন পদ্ধতির গ্রহণযোগ্যতা এবং এক্ষেত্রে নিজেদের প্রস্তুতি এবং সেবাগ্রহিতার মানসিকতা এমন নানা ভার্টিক্যাল চিন্তা করেই দেশে ডিজিটাল মুদ্রা চালুর বিষয়ে বাস্তব ভিত্তিক সিদ্ধান্ত নেয়ার পরামর্শ দেন তিনি। নেতিবাচক সব আভাস থেকে বাংলাদেশ এর জন্ম থেকেই ইতিবাচক অবস্থানে যাচ্ছে উল্লেখ করে এএনএম শফিকুল ইসলাম বলেন, “যখন কোনো ভালো জিনিস আসে এটা অবসম্ভাবি। এটাকে বাধা দিয়ে আটকে রাখা যাবে না। যদি ব্লকচেইন অল্প ব্যয়ে মানুষের জন্য সিকিউরডসিস্টেম এনসিউর করতে পারি, ডেটা থেফট প্রতিরোধ করতে পারি, স্টোরেজ এনসিউর করতে পারি, অ্যাাকাউন্টিবিলিটি, ট্রান্সপারেন্সি নিশ্চিত করতে পারি এবং এটা অডিটেবল হবে; এই বিষয়গুলো যখন একসাথে আসে তখন কিন্তু আমার মনে হয় ব্লকচেইন প্রযুক্তি বোধহয় আগামী দিনে আমাদের একসেপ্ট করতেই হবে।” সেশনটি পরিচালনা করেন ইন্সপায়রিং বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠাতা ইমরান ফাহাদ।